শুক্রবার মুখোমুখি মোদি-মমতা, কটাক্ষ বাম-কংগ্রেসের


 প্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধাঃ শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটের সময় ৭, লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসনভবনে নরেন্দ্র মোদির মুখোমুখি হতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি প্রসঙ্গে রাজ্য রাজনীতির টালমাটাল আবহের মধ্যে মোদি-মমতা এই ‘হাই ভোল্টেজ’ সাক্ষাৎ নিয়ে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্য রাজনীতিতে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক পর্ব, বিশেষ করে রাজ্য রাজনৈতিক মহলে। কারণ রাজ্যে এই মুহূর্তে যুযুধান বিজেপি এবং তৃণমূল। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেপ্তারি নিয়ে যেখানে দিনের পর দিন বিজেপি কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে শাসক তৃণমূলকে, সেখানে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক ঘিরে সিপিএম এবং কংগ্রেস বারবার কটাক্ষ করছে। কিন্তু তৃণমূলের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয় মুখ্যমন্ত্রী যেমন রাজ্য সরকারের সর্বোচ্চ ব্যক্তি তেমনি প্রধানমন্ত্রীও দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ব্যক্তি। সে ক্ষেত্রে রাজ্যের একাধিক দাবি দাওয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অবশ্যই দেখা করতে পারেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে।

তৃণমূল সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান বক্তব্যই থাকবে রাজ্যের পাওনা বকেয়া সম্পর্কিত। ১০০ দিনের কাজ থেকে শুরু করে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ টাকা পাওনা রাজ্যের (প্রায় ৯৭ হাজার কোটি)। এর আগেও একাধিকবার এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দরবার করেছেন তৃণমূলের সাংসদেরা। প্রধানমন্ত্রীকে একাধিকবার চিঠিও লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ‌সেই জায়গা থেকে মুখ্যমন্ত্রী নিজে উদ্যোগী হয়ে দিল্লি এসেছেন। এছাড়াও পেট্রোল ডিজেল এবং রান্না গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি সহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের উপরে জিএসটি বৃদ্ধির মত ৬ টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবশ্যই জায়গা পাবে দুই শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনায়।

তবে রাজধানীর রাজনীতিবিদদের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে যেখানে প্রধান বিরোধী দল বিজেপি প্রতিমুহূর্তে শিক্ষা নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করছে সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এই সাক্ষাৎ অবশ্যই বিপরীত বার্তা বহন করে। যদিও রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী সময় চাইলে প্রধানমন্ত্রীকে সময় দিতেই হয়, সেটাই নিয়ম। কিন্তু প্রতিবারই মুখ্যমন্ত্রী এটা নিয়ে রাজনীতি করেন। আগেরবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এসে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, বিশ্ব বঙ্গ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আসবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি নাকি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু পরে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সাংসদদের জানিয়েছিলেন, কেউ মুখোমুখি নিমন্ত্রণ করলে ‘ভেবে দেখব’ বলাটাই ভারতীয় সংস্কৃতির দস্তুর। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী বেরিয়ে সবাইকে জানাবেন যে তিনি বিশ্ববঙ্গ সম্মেলনে আসবেন বলে সম্মত হয়েছেন।

কিন্তু তৃণমূল সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, রাজ্যের রাজনৈতিক সমস্যা বা লড়াইকে যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর পরিপন্থী করে তোলা একদমই উচিত নয়। গতবারেও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর যখন বৈঠক হচ্ছিল তখন বিজেপির নবান্ন অভিযান ঘিরে কলকাতায় ভয়ংকর পরিস্থিতি ছিল। আইন অমান্য করার অভিযোগে বিজেপির বহু নেতা কর্মী সেদিন যেমন পুলিশের কড়া চেহারার সম্মুখীন হয়েছিলেন, তেমনি জেলবন্দিও হয়েছিলেন অনেকে। তার কিন্তু কোনও ছাপই পড়েনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে। রাজ্যের দাবি দাওয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে দেখা করবেন, এটাই সাংবিধানিক দস্তুর। তা নিয়ে কোনও রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে চাওয়া উচিত নয়। শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর সন্ধ্যে সাড়ে ছটায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন মমতা। শনিবার দিল্লি, পঞ্জাব, তেলেঙ্গানা সহ চার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক মমতার। রবিবার নীতি আয়োগের বৈঠক সেরে সোমবার কলকাতায় ফিরে যাবেন তিনি।

নবীনতর পূর্বতন