আচার্য ইস্যুতে বিস্ফোরক শুভেন্দু-সুজনরা, 'মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ইচ্ছে পূরণ হতে দেব না..


 প্রতিনিধি:-

 রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য পদে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অর্থাৎ এবার থেকে  রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের বদলে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য হবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। মুখ্যমন্ত্রীকে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য করতে চেয়ে বিধানসভায় বিল আনতে চলেছে রাজ্যসরকার,এই কথা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক এবং শিক্ষা মহলে। কারও মতে এই সিদ্ধান্ত ঠিক, শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেছেন, 'মন্ত্রিসভায় সর্বসম্মতিক্রমে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।পশ্চিমবঙ্গের সরকার যত বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, তাঁর আচার্য পদে রাজ্যপালের পরিবর্তে মুখ্যমন্ত্রীকে আচার্য করতে চেয়ে বিধানসভায় বিল আনবে সরকার।' তবে এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধীতা করেছে বাম-বিজেপি।রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য পদে মমতার প্রসঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, 'এসএসসি দুর্নীতি নিয়ে রাজ্যে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী এবং বর্তমান মন্ত্রীকে যেভাবে ডাকা হচ্ছে, অত সহজ বিষয় নয় এটা। এসএসসি নিয়ে বিরাট দুর্নীতি চলছে। কলেজ সার্ভিস কমিশন নিয়ে দুর্নীতি চলছে। আমি প্রকাশ্যে আনব, ইউনিভার্সিটি ছাত্র পরিষদ কীভাবে সবাইকে জয়েন করিয়েছে,এরা এসএসসি দুর্নীতি নিয়ে লক্ষাধিক টাকা লুট করেছে মানুষের কাছ থেকে।এখান থেকে দৃষ্টি ঘোরানোর জন্য, কখনও অর্জুন সিং, আবার কখনও আবার  বিশ্ব বিদ্যালয়ে আচার্য বদল,শুভেন্দু আরও বলেন,' আচার্য বদল অতসোজা কাজ নয় এর জন্য বিধানসভায় বিল আনতে হয় সেই বিল রাজ্যপালের কাছে পাঠাতে হয়। রাজ্যপালের সম্মতি নিতে হবে তারপর, কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন নিতে হবে। মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের সব ইচ্ছে , সব সাধ আমরা পূরণ হতে দেব না।'কটাক্ষ এবং বিরোধীতায় বাম নেতারাও। দলের তরফে সুজন চক্রবর্তী কটাক্ষ করে বলেছেন, 'এটা খুবই ভাল সিদ্ধান্ত। যে মুখ্যমন্ত্রী এপাং ওপাং ঝাপাং আমরা সবাই ড্যাং ড্যাং লিখতে পারেন, তিনি ছাড়া রাজ্যে আচার্য হওয়ার আর কে যোগ্য আছে।ওর থেকে যোগ্য আর কেউ রাজ্যে নেই,শিক্ষা দফতর বুঝে গিয়েছে যে, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে মুখ্যমন্ত্রীকেই আচার্য করতে হবে।'বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, 'সম্পূর্ণ ক্ষমতা একা হাতে নিতেই এই সিদ্ধান্ত এটা স্বৈরাচারের চরম পর্যায়। রাজ্যে একনায়ক তন্ত্র চলছে। এরপর হয়তো সংবিধানকেও অগ্রাহ্য করার প্রস্তাব দেবে তৃণমূল মন্ত্রীসভা। রাজ্য দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। নিজেই নিজেকে সাহিত্য একাডেমি পুরষ্কার দিচ্ছেন। সবকিছুর একটা সীমা থাকা দরকার।'

নবীনতর পূর্বতন