আপাতত রামনবমী নিয়ে ঠাণ্ডা লড়াই চললেও আগামী কয়েকটা দিন কড়া বাক্য বিনিময় হতে চলেছে তা একপ্রকার নিশ্চিত


প্রদীপ সাঁতরা - মঙ্গলবার চৈত্রের দুপুরে হুগলির গুড়াপে প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। ওখানে তিনি জানান, সামনেই রামনবমী শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করুক। অস্ত্র নিয়ে মিছিল করা যাবে না। মহাবীর জয়ন্তী আছে ২৯ তারিখ। ওইদিন পরীক্ষাও আছে। তাই, ৫টার পর মিছিলের পারমিশন দেবেন। তার কয়েক ঘন্টা বাদে হাওড়া বেলিলিয়াস রোডে বিজেপি কার্যালয়ে বসে দিলীপ ঘোষ বলেন, অস্ত্র নিয়ে রামনবমীতে মিছিল করবে বিজেপি। এখানেই শেষ করেননি তাঁর বক্তব্য, তিনি নিজেও অস্ত্র নিয়ে মিছিলে হাঁটবেন।

রামনবমী নিয়ে এতটা আক্রমণাত্মক কেন হলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি ? বিজেপির ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চায়েত ভোট মোটামুটি মে মাসে হতে চলেছে। তার আগে রামনবমী ইস্যুকে হাতছাড়া করতে চাইছে না বিজেপি। প্রসঙ্গত ধর্মীয় মেরুকরণের জেরেই উলুবেড়িয়া লোকসভা ভোটে ভালো ফলাফল করেছে বিজেপি! এমন টাটকা বিষয় ছাড়তে চাইছে না। তাছাড়া উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে উপ নির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবি ও ২৪ ঘন্টা আগে নবান্নে তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাও -এর সঙ্গে ২ঘন্টা বৈঠক ভালোভাবে নেয়নি গেরুয়া শিবির।

সেই হাওড়াতে এসেই মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিষাদগার হলেন দিলীপ ঘোষ। তিনি আরও বলেন, উনি এখন কংগ্রেস, বিজেপিকে বাদ দিয়ে তৃতীয়ফ্রণ্ট করার কথা ভাবছেন। অনান্য রাজ্যেও গিয়েছিলেন। তারা মমতা বন্দোপাধ্যায় সম্পর্কে জানার পর এখন আর ওঁনার সঙ্গে নেই। আমরা অপেক্ষা করব কি হয় দেখতে। তিনি আরও বলেন, আসলে মমতা বন্দোপাধ্যায় সারা দেশে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত ও হতাশ। তাই তাঁকে উৎসাহ দেওয়ার জন্যে তারা আসছেন। ফোন করছেন। ওঁনারাও জানেন যে কিছু হবে না। কিন্তু আঞ্চলিক দলগুলির যেভাবে পরাজয় হচ্ছে, একটা ভয় থেকে তারা নিজেদের অস্তিত্ব বাচাঁবার জন্যে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আসছেন।
নবীনতর পূর্বতন